প্রথিতযশা
কোচ পি কে ব্যানার্জীর প্রদত্ত ‘হেড মাস্টার’ নাম বা ভূষণ আমাদের শ্যামনগরের প্রিয়
অশোকলাল কে অম্লান মহতে স্থিত করেছে। তার ফুটবল দক্ষতা, শৈলী কলকাতা, ভারতে এবং
ভারতের বাইরেও সসম্মানে স্বীকৃত। পি কে ব্যানার্জী একটি রচনায় লিখেছেন “অশোকের
তুলনা ও নিজেই। বুদ্ধিকে শারীরিক অক্ষমতার উপর স্থান দিয়ে বছরের পর বছর দাপটের
সঙ্গে ফুটবল খেলে গেছেন এমন সংখ্যা হাতে গোনা মাত্র তিন চার জন। এদের মধ্যে অশোকলালের
নাম অবশ্যই রাখতে হবে। ক্ষুরধার বুদ্ধির জন্য ওর নাম দিয়েছিলাম ‘ধৃতরাষ্ট্র’। তিনি
লড়াকু স্টপার হিসাবে ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন অশোক লাল কে অরুন ঘোষ, নঈম ও সুধীর
কর্মকারের সঙ্গে একাসনে বসিয়েছেন।
দাদা
পান্নালাল ব্যানার্জীর হাত ধরে ফুটবল খেলা শুরু, যুগের প্রতীক ক্লাবের কেষ্ট পাল
ছিলেন শ্যামনগরের আর সব খেলোয়াড়ের মত অশোক লালের ও প্রেরণা। শ্যামনগর জ্যোতি সঙ্ঘে
শুরু ফুটবল জীবন। জেলার লিগে ঐ ক্লাবের হয়েই ফুটবল খেলা শুরু, তারপর যুগের প্রতীক
ক্লাব থেকে ১৯৬৪ সালে আন্তঃ জেলা ফুটবল ও কলকাতার মাঠে খেলা শুরু।
আমাদের
প্রিয় তিনে’দা কলকাতা লিগে প্রথম খেলেন ‘গ্রীয়ার ক্লাবে’ ১৯৬৫ সালে, ১৯৬৬ সালে
‘বালি প্রতিভা’ য়। ইস্টবেঙ্গলে খেলেছেন ১৯৬৮ এবং ১৯৭১ থেকে একটানা ছয় বছর, এর
মধ্যে ১৯৭৫ সালে একটানা ৬ বছর লিগ জয়ের দুর্লভ সম্মান অশোক লাল ব্যানার্জীর
নেতৃত্বে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সমর্থকরা চীরকাল যা নিয়ে গলা ফাটাবেন সেই আই এফ এ শিল্ড
ফাইনালে মোহন বাগানের বিরুদ্ধে ৫ গোলে জয় ও তার অধিনায়কত্বে।
১৯৬৯
সালে সন্তোষ ট্রফিতে বাংলার জয়ের সূত্রে ১৯৭১ সালে এশিয়ান ক্লাব চাম্পিয়ানশিপে
খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলা। তেহেরানে এই চাম্পিয়ানশিপে নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন
অশোক লাল। আন্তর্জাতিক আসরে প্রথম খেলেছেন ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেবার আগে। খেলেছেন
এশিয়ান যুব ফুটবল ১৯৬৮ সালে ব্যাঙ্কক ও ১৯৬৯ সালে কোরিয়া তে। বাংলা দলে খেলেছেন
একটানা ৬ বছর ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৪ সাল। এর মধ্যে ১৯৬৯, ৭১, ৭২ সালে বাংলা চাম্পিয়ান।
বাংলার অধিনায়ক ছিলেন ১৯৭৪ সালে। ছোট দল খিদিরপুরে থেকেই তিনে দা ভারতীয় দলে খেলার
সুযোগ পেয়েছিলেন। খেলেছিলেন মারডেকা ফুটবলে।
ফুটবলে
তিনে দার অনুমান ক্ষমতা আর ক্ষুরধার বুদ্ধি তার সঙ্গে খেলার সুযোগ পাওয়া ফুটবলার
দের আজও আলোচনার বিষয়। কথিত আছে তিনে দার জার্সি খেলতে নেমে ঘামে ভিজতো না। তার
স্মৃতি রোমন্থনে তার রসবোধ(হিউমার) এখনো সকলকে ভারাক্রান্ত করে। এখনো আলোচনার বিষয়
তিনেদা যদি ফুটবলার না হয়ে ব্যাটমিন্টন খেলোয়াড় হতেন তাহলে আরও অনেক অনেক বড়
ব্যাটমিন্টন প্লেয়ার হতেন। অনেকে হয়তো ভুলে গেছেন তিনে দা ব্যাটমিন্টন
চাম্পিয়ানও হয়েছিলেন। খেলা ছেড়ে দেবার পরও বেশ বেশী বয়সেও তাকে কেউ ব্যাটমিন্টনে
হারতে দেখেন নি।
এক বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শ্যামনগর
তথা রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব অশোক লাল ব্যানার্জী (তিনে দা) অকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন ৩ রা
জানুয়ারী ২০০৮ সালে।

একজন অসাধারণ ফুটবলার ছিলেন, হয়তো একটু চাপা প্রকৃতির।
উত্তরমুছুন