শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৫

ভারত চন্দ্র রায়




ভারত চন্দ্র রায় গুণাকর বাঙ্গালীর গর্বের কবি

ভারত চন্দ্র রায় গুণাকর বাঙ্গালীর গর্বের কবি । ১৭১২ থেকে ১৭৬০ এই ৪৮ বছরের স্বল্প কালীন জীবনে কবির সাহিত্য কীর্তির অধিকাংশ ১৭৫০ থেকে ১৭৬০ এই ১০ বছরের মধ্যেই রচিত। এর আগে ১৭৩৭ সালে তিনি সত্যপীরের পাঁচালী লিখেছিলেন। উনিশ শতকের ষষ্ঠ দশক পর্যন্তও এমনকি ইংরেজি শিক্ষিত বাঙ্গালীর কাছেও ভারত চন্দ্র রায়গুনাকরই বাঙলার শ্রেষ্ঠ কবি হিসাবেই সম্মানিত হয়েছেন। শ্যামনগরের আধিবাসী হিসাবে আমরা এই গর্বে অনুরণিত হতেই পারি যে সাহিত্যকীর্তির বেশির ভাগ সময় তিনি আমাদের এই এলাকায় অতিবাহিত করে ছিলেন এখান কার স্থায়ী অধিবাসী হিসেবেই।
নবাবী আমলে বাংলা দেশের জমিদাররা নিজেদের রাজা মহারাজা কল্পনা করে সভাসদদের মধ্যে অনেক গুণী পণ্ডিত কে সম্মানের আসন দিয়ে রেখে ছিলেন। বাংলা সাহিত্যের উন্নতিতে তাদের এই অবদান অবশ্যই স্মরণীয়। নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আনুকুল্য লাভ করে ছিলেন ভারত চন্দ্র। রায় গুণাকর উপাধিও তাঁরই দেওয়া।
সংস্কৃত ভাষার সে সময় মন্দার বাজার। সরকারি ভাষা ছিল ফার্সি। উন্নতির আশায় এমনকি পণ্ডিত ব্রাহ্মণদেরও এই ভাষা অবশ্য শিক্ষণীয় ছিল। সে সময় ভারত চন্দ্রের একই সঙ্গে বাংলা,সংস্কৃত, ফার্সি ও হিন্দি ভাষায় পাণ্ডিত্য রীতিমত অবাক করা।সংস্কৃত ও বাংলা ভাষায় লেখা “নাগাস্টকম”
একই সঙ্গে তাঁর পাণ্ডিত্য , ধীশক্তি এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞার ও প্রমান রাখে।
ভারতচন্দ্রের কাব্য কুশলতা তাঁর লেখার বহুমুখিতা এবং তাঁর পাণ্ডিত্য নিয়ে আলোচনা অত্যান্ত সংক্ষিপ্ত পরিসরে এক অমার্জনীয় ধৃষ্টতা ছাড়া কিছুই নয়। তখনকার দিনে দুরারোগ্য বহুমূত্র রোগে জীবন অবসানের আগে বাংলা সাহিত্যের সেবায় যে স্তরে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন বাঙ্গালিকে তা চির ঋণী করে রেখেছে।

লেখক ডাঃ দেবাশিস দাশগুপ্ত । শ্যামনগর  

Email: drdebasisdasgupta@gmail.com

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন