রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৩

প্রশান্ত মিত্র (মিলন'দা), লাকি ক্যাপ্টেন মোহনবাগান

প্রশান্ত মিত্র, (মিলন’দা) মোহনবাগানিদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন তাদের লাকি ক্যাপ্টেন হিসাবেই। ১৯৭০ থেকে ১৯৭৫ সাল মোহনবাগান এক বারের জন্যও লিগ জিততে পারেনি, এই কয় বছর ছিল ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের তথা শ্যামনগরের আরেক মহান ফুটবলার অশোক লাল ব্যানার্জী (তিনে’দা) দের জয়জয়কার, এই সময়ের মধ্যে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব অশোক লাল ব্যানার্জী (তিনে’দা)র অধিনায়কত্বে মোহনবাগান কে ৫ গোলে হারিয়েছে, হারতে হারতে মোহনবাগান সমর্থকরা জয়ের আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন, সেই ১৯৭৬ সালে প্রশান্ত মিত্র আমাদের মিলন’দার অধিনায়কত্বে দীর্ঘ ৬ বছর বাদে আবার লিগ জয় করে। সেই থেকেই মিলন’দা মোহনবাগানিদের কাছে তাদের প্রিয় লাকি ক্যাপ্টেন। সেই জয়ের পর মিলন দাকে সামনে রেখে রাজ্য জুড়ে জায়গায় জায়গায় মোহনবাগান সমর্থকরা জয়ের আনন্দে মিছিল করে, সর্বত্র সেই মিছিলের সামনে তাদের প্রিয় ক্যাপ্টেন মিলন দা।

প্রশান্ত মিত্র তাঁর ফুটবল জীবন সুরু করেন শ্যামনগরের যুগের পথিক ক্লাবে, জেলায় খেলোয়াড় হিসাবে বিখ্যাত হবার পর তিনি ১৯৬৯ সালে কোলকাতা ময়দানে আসেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জুনিয়ার টিমের হয়ে Power league খেলার জন্য। তারপর তিনি খিদিরপুর ক্লাবে ২ বছর চুটিয়ে খেলার পর ১৯৭২ সালে মোহনবাগানে আসেন, তারপর থেকে খেলোয়াড় জীবনের শেষ পর্যন্ত মোহনবাগান ছেড়ে অন্য কোন ক্লাবে যাননি। তরুণ বসু মোহনবাগানের প্রথম গোলকিপার থাকার জন্য মিলন’দা হয়তো সব ম্যাচ খেলার সুযোগ হয় নি, কিন্তু যখনই সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই নিজের যোগ্যতা প্রমান করেছেন।
১৯৭৪ সালে তিনি ভারতের জুনিয়ার ন্যাশানাল টিমের সদস্য নির্বাচিত হন,এবং এই বছর ভারত জুনিয়ার এশিয়ান চাম্পিয়ানশীপে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়। তিনি ভারতের সিনিয়ার টিমের সদস্য হয়ে মারডেকা চাম্পিয়ানশীপ ও তেহেরান এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেন। ১৯৭৫ সালে সন্তোষ ট্রফিতে সেরা গোলকিপারের সম্মান পান।
আগেই বলা হয়েছে ১৯৭৬ সালে তিনি মোহনবাগানের অধিনায়ক নির্বাচিত হন, যা এক ইতিহাস। ১৯৭৬ সালে তাঁর অধিনায়কত্বে মোহনবাগান বরদলুই ট্রফি, গোর্খা ব্রিগেড গোল্ড কাপের সাথে আইএফএ শিল্ড ও জিতে নেয়, এই বছর কেবল মাত্র ডুরান্ড কাপ জিততে পারে নি, পারলে মিলন দার অধিনায়কত্বে দেশের সবকটা ট্রফিতে মোহনবাগান টেন্ট ভঁরে যেতো।
সদা হাস্যমুখ মিলন দা মানুষ হিসাবেও বড় মাপের, কোন দিন তাকে কেউ রাগতে দ্যাখে নি, ছোট বড় সবার কাছে তিনি তাদের আপনজন ছিলেন। হিন্দুস্থান লিভারে চাকরি করতেন, এক সন্তান, এক কন্যার পিতা প্রশান্ত মিত্র গত ৩রা মে ২০১০ সালে পরলোকগমন করেন, তিনি কিডনির রোগে ভুগছিলেন। শ্যামনগরবাসী মিলন'দা (প্রশান্ত মিত্র)র জন্য গর্ব অনুভব করে।   

    

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন