১৯৫৫-৫৬
সাল শ্যামনগরে কেষ্ট পাল যখন কলকাতা মাঠের ফুটবল কাঁপাচ্ছেন একই সঙ্গে জেলা
রাজ্যের ভলিবল মাঠ কাঁপাচ্ছেন শ্যামনগরের বুলি দা অর্থাৎ সূর্যকান্ত ঘোষাল, খেলা
পাগল শ্যামনগরবাসীর কাছে সেই সময়টা ছিল সুখের ও আনন্দের। ফুটবলের মাঠে যে রকম
মানুষ ভিড় করত ভলিবলের মাঠেও সেই রকম।
ফুটবলের
মূলকেন্দ্র বিন্দু যে রকম আমাদের বাংলা, ভলিবলে ঠিক তার উল্টো, ভলিবলের প্রধান
কেন্দ্রবিন্দু পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, কেরল, বাংলা নয়। ভারতের ভলিবলের বড় বড়
খেলোয়াড় দের নামের তালিকায় বাংলার কোন খেলোয়াড়ের নাম খুঁজে পাওয়া মুস্কিল, প্রায়
নেই বললেই চলে।
একটা
উদাহরণ দিয়েই আমারা চেষ্টা করি প্রায় ভুলে যাওয়া এক বিরাট মাপের ভলিবল খেলোয়াড়
বুলি দার স্মৃতিচারণ করার। ১৯৫৬-৫৭ সালে বিশ্বজয়ী সোভিয়েত রাশিয়া ভারত সফরে আসে ৬
টা ম্যাচ খেলার জন্য। কলকাতায় ভারতের হয়ে খেলবার জন্য বাংলা থেকে একমাত্র ডাক পান
সূর্যকান্ত ঘোষাল। ওই সফরে রাশিয়া ৫-১ ম্যাচে জেতে, পরাজিত হয় একমাত্র কলকাতার
ইডেনের ম্যাচে। বুলি দা সেই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের শিরোপা পান। এর পরে পরেই
বুলিদার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে শ্যামনগরে ভলিবল খেলায় জোয়ার আসে। কমল চট্টোপাধ্যায়
পরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, শঙ্কর নাগ, কার্তিক বাখুন্দি, ইত্যাদি রাজ্য ভলিবলের বিখ্যাত
খেলোয়াড়রা বুলিদার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই এই খেলায় এগিয়ে এসেছেন। তারা ভালখেলেই
বুলিদার তর্পণ করেছেন।
বুলিদা
শুধু ভলিবল খেলোয়াড় নন, তিনি ১৯৫৪ সালে ওয়েট লিফটিং এ লাইট ওয়েট বিভাগে রাজ্য
চাম্পিয়ান।রূপবান
বুলিদা ১৯৬২-৬৩ সালে বাটা নগরে সারা বাংলা সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় ভজন ও রাগ প্রধান
বিভাগে স্বর্ণ পদক লাভ করে ছিলেন।
ভলিবল,
ওয়েট লিফটিং , সঙ্গীত এই নিয়েই এই জনপ্রিয় মানুষটা বাকি জীবন কাটাতে চেয়েছিলেন, না
তা হয় নি, হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে
প্যারালাইসিস হয়ে বাক্য হারা হয়ে জীবনের শেষ ১০ বছর তাকে বিছানায় কাটাতে হয়।রাজ্য
ভলিবল ফেডারেশন, বেঙ্গল অলিম্পিক এসোসিয়েশন তাকে সম্মানিত সদস্য পদ দিয়ে সম্মানিত
করে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন